মোদের কিছু নাই রে নাই, আমরা ঘরে বাইরে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যতই দিবস যায় রে যায় গাই রে সুখে হায় রে হায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। যারা সোনার চোরাবালির 'পরে পাকা ঘরের-ভিত্তি গড়ে তাদের সামনে মোরা গান গেয়ে যাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন থেকে থেকে গাঁঠের পানে গাঁঠকাটারা দৃষ্টি হানে তখন শূন্যঝুলি দেখায়ে গাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥ যখন দ্বারে আসে মরণবুড়ি মুখে তাহার বাজাই তুড়ি, তখন তান দিয়ে গান জুড়ি রে ভাই-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। এ যে বসন্তরাজ এসেছে আজ, বাইরে তাহার উজ্জ্বল সাজ, ওরে, অন্তরে তার বৈরাগী গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না। সে যে উৎসবদিন চুকিয়ে দিয়ে, ঝরিয়ে দিয়ে, শুকিয়ে দিয়ে, দুই রিক্ত হাতে তাল দিয়ে গায়-- তাইরে নাইরে নাইরে না। না না না॥
যেতে দাও যেতে দাও গেল যারা। তুমি যেয়ো না, তুমি যেয়ো না, আমার বাদলের গান হয় নি সারা ॥ কুটিরে কুটিরে বন্ধ দ্বার, নিভৃত রজনী অন্ধকার, বনের অঞ্চল কাঁপে চঞ্চল-- অধীর সমীর তন্দ্রাহারা ॥ দীপ নিবেছে নিবুক নাকো, আঁধারে তব পরশ রাখো। বাজুক কাঁকন তোমার হাতে আমার গানের তালের সাথে, যেমন নদীর ছলোছলো জলে ঝরে ঝরোঝরো শ্রাবণধারা ॥