চেনা ফুলের গন্ধস্রোতে ফাগুন-রাতের অন্ধকারে চিত্তে আমার ভাসিয়ে আনে নিত্যকালের অচেনারে॥ একদা কোন্ কিশোর-বেলায় চেনা চোখের মিলন-মেলায় সেই তো খেলা করেছিল কান্নাহাসির ধারে ধারে॥ তারি ভাষার বাণী নিয়ে প্রিয়া আমার গেছে ডেকে, তারি বাঁশির ধ্বনি সে যে বিরহে মোর গেছে রেখে। পরিচিত নামের ডাকে তার পরিচয় গোপন থাকে, পেয়ে যারে পাই নে তারি পরশ পাই যে বারে বারে॥
আর কেন, আর কেন, দলিত কুসুমে বহে বসন্ত-সমীরণ। ফুরায়ে গিয়াছে বেলা, এখন এ মিছে খেলা, নিশান্তে মলিন দীপ কেন জ্বলে অকারণ। অশ্রু যবে ফুরায়েছে তখন মুছাতে এলে, অশ্রুভরা হাসিভরা নবীন নয়ন ফেলে। এই লও, এই ধরো, এ মালা তোমরা পরো, এ খেলা তোমরা খেলো, সুখে থাকো অনুক্ষণ।
আমায় থাকতে দে-না আপন-মনে। সেই চরণের পরশখানি মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে॥ কথার পাকে কাজের ঘোরে ভুলিয়ে রাখে কে আর মোরে, তার স্মরণের বরণমালা গাঁথি বসে গোপন কোণে॥ এই-যে ব্যথার রতনখানি আমার বুকে দিল আনি এই নিয়ে আজ দিনের শেষে একা চলি তার উদ্দেশে। নয়নজলে সামনে দাঁড়াই, তারে সাজাই তারি ধনে॥