কূল থেকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে, সাগর-মাঝে ভাসিয়ে দিলেম পালটি তুলে ॥ যেখানে ঐ কোকিল ডাকে ছায়াতলে সেখানে নয়, যেখানে ঐ গ্রামের বধূ আসে জলে সেখানে নয়, যেখানে নীল মরণলীলা উঠছে দুলে সেখানে মোর গানের তরী দিলেম খুলে ॥ এবার, বীণা, তোমায় আমায় আমরা একা-- অন্ধকারে নাইবা কারে গেল দেখা॥ কুঞ্জবনের শাখা হতে যে ফুল তোলে সে ফুল এ নয়, বাতায়নের লতা হতে যে ফুল দোলে সে ফুল এ নয়-- দিশাহারা আকাশ-ভরা সুরের ফুলে সেই দিকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে ॥
আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন! তারি গলার মালা হতে পাপড়ি হোথা লুটায় ছিন্ন ॥ এল যখন সাড়াটি নাই, গেল চলে জানালো তাই-- এমন ক'রে আমারে হায় কে বা কাঁদায় সে জন ভিন্ন ॥ তখন তরুণ ছিল অরুণ আলো, পথটি ছিল কুসুমকীর্ণ। বসন্ত যে রঙিন বেশে ধরায় সে দিন অবতীর্ণ। সে দিন খবর মিলল না যে, রইনু বসে ঘরের মাঝে-- আজকে পথে বাহির হব বহি আমার জীবন জীর্ণ ॥