তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে আমায় শুধু ক্ষণেক তরে। আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে আমি সাঙ্গ করব পরে। না চাহিলে তোমার মুখপানে হৃদয় আমার বিরাম নাহি জানে, কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াই যত ফিরি কূলহারা সাগরে॥ বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিশ্বাসে এল আমার বাতায়নে। অলস ভ্রমর গুঞ্জরিয়া আসে ফেরে কুঞ্জের প্রাঙ্গণে। আজকে শুধু একান্তে আসীন চোখে চোখে চেয়ে থাকার দিন, আজকে জীবন-সমর্পণের গান গাব নীরব অবসরে॥
মাটির বুকের মাঝে বন্দী যে জল মিলিয়ে থাকে মাটি পায় না, পায় না, মাটি পায় না তাকে॥ কবে কাটিয়ে বাঁধন পালিয়ে যখন যায় সে দূরে আকাশপুরে গো, তখন কাজল মেঘের সজল ছায়া শূন্যে আঁকে, সুদূর শূন্যে আঁকে-- মাটি পায় না, পায় না, মাটি পায় না তাকে॥ শেষে বজ্র তারে বাজায় ব্যথা বহ্নিজ্বালায়, ঝঞ্ঝা তারে দিগ্বিদিকে কাঁদিয়ে চালায়। তখন কাছের ধন যে দূরের থেকে কাছে আসে বুকের পাশে গো, তখন চোখের জলে নামে সে যে চোখের জলের ডাকে, আকুল চোখের জলের ডাকে-- মাটি পায় রে, পায় রে, মাটি পায় রে তাকে॥