কে গো অন্তরতর সে আমার চেতনা আমার বেদনা তারি সুগভীর পরশে॥ আঁখিতে আমার বুলায় মন্ত্র, বাজায় হৃদয়বীণার তন্ত্র, কত আনন্দে জাগায় ছন্দ কত সুখে দুখে হরষে॥ সোনালি রুপালি সবুজে সুনীলে সে এমন মায়া কেমনে গাঁথিলে-- তারি সে আড়ালে চরণ বাড়ালে, ডুবালে সে সুধাসরসে। কত দিন আসে কত যুগ যায়, গোপনে গোপনে পরান ভুলায়, নানা পরিচয়ে নানা নাম ল'য়ে নিতি নিতি রস বরষে॥
আমার নয়ন তব নয়নের নিবিড় ছায়ায় মনের কথার কুসুমকোরক খোঁজে সেথায় কখন অগম গোপন গহন মায়ায় পথ হারাইল ও যে॥ আতুর দিঠিতে শুধায় সে নীরবেরে-- নিভৃত বাণীর সন্ধান নাই যে রে; অজানার মাঝে অবুঝের মতো ফেরে অশ্রুধারায় মজে॥ আমার হৃদয়ে যে কথা লুকানো তার আভাষণ ফেলে কভু ছায়া তোমার হৃদয়তলে? দুয়ারে এঁকেছি রক্ত রেখায় পদ্ম-আসন, সে তোমারে কিছু বলে? তব কুঞ্জের পথ দিয়ে যেতে যেতে বাতাসে বাতাসে ব্যথা দিই মোর পেতে-- বাঁশি কী আশায় ভাষা দেয় আকাশেতে সে কি কেহ নাহি বোঝে॥