ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো আমার মুখের আঁচলখানি। ঢাকা থাকে না হায় গো, তারে রাখতে নারি টানি॥ আমার রইল না লাজলজ্জা, আমার ঘুচল গো সাজসজ্জা-- তুমি দেখলে আমারে এমন প্রলয়-মাঝে আনি আমায় এমন মরণ হানি॥ হঠাৎ আকাশ উজলি কারে খুঁজে কে ওই চলে, চমক লাগায় বিজুলি আমার আঁধার ঘরের তলে। তবে নিশীথগগন জুড়ে আমার যাক সকলই উড়ে, এই দারুণ কল্লোলে বাজুক আমার প্রাণের বাণী কোনো বাঁধন নাহি মানি॥
নির্জন রাতে নিঃশব্দ চরণপাতে কেন এলে। দুয়ারে মম স্বপ্নের ধন-সম এ যে দেখি-- তব কণ্ঠের মালা এ কি গেছ ফেলে। জাগালে না শিয়রে দীপ জ্বেলে-- এলে ধীরে ধীরে নিদ্রার তীরে তীরে, চামেলির ইঙ্গিত আসে যে বাতাসে লজ্জিত গন্ধ মেলে॥ বিদায়ের যাত্রাকালে পুষ্প-ঝরা বকুলের ডালে দক্ষিণপবনের প্রাণে রেখে গেলে বল নি যে কথা কানে কানে-- বিরহাবারতা অরুণ-আভার আভাসে রাঙায়ে গেলে॥