সারা নিশি ছিলেম শুয়ে বিজন ভুঁয়ে আমার মেঠো ফুলের পাশাপাশি, তখন শুনেছিলেম তারার বাঁশি॥ যখন সকালবেলা খুঁজে দেখি স্বপ্নে-শোনা সে সুর একি আমার মেঠো ফুলের চোখের জলে সুর উঠে ভাসি॥ এ সুর আমি খুঁজেছিলেম রাজার ঘরে, শেষে ধরা দিল ধরার ধূলির 'পরে। এ যে ঘাসের কোলে আলোর ভাষা আকাশ-হতে-ভেসে-আসা-- এ যে মাটির কোলে মানিক-খসা হাসিরাশি॥
শোনো শোনো আমাদের ব্যথা দেবদেব, প্রভু, দয়াময়— আমাদের ঝরিছে নয়ন, আমাদের ফাটিছে হৃদয় ।। চিরদিন আঁধার না রয়— রবি উঠে, নিশি দূর হয়— এ দেশের মাথার উপরে এ নিশীথ হবে না কি ক্ষয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন ? চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ?। মরমে লুকানো কত দুখ, ঢাকিয়া রয়েছি ম্লান মুখ— কাঁদিবার নাই অবসর— কথা নাই, শুধু ফাটে বুক । সঙ্কোচে ম্রিয়মাণ প্রাণ, দশ দিশি বিভীষিকাময়— হেন হীন দীনহীন দেশে বুঝি তব হবে না আলয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন, চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ।। কোনো কালে তুলিব কি মাথা । জাগিবে কি অচেতন প্রাণ । ভারতের প্রভাতগগনে উঠিবে কি তব জয়গান । আশ্বাসবচন কোনো ঠাঁই কোনোদিন শুনিতে না পাই— শুনিতে তোমার বাণী তাই মোরা সবে রয়েছি চাহিয়া । বলো, প্রভু, মুছিবে এ আঁখি, চিরদিন ফাটিবে না হিয়া ।।
যদি আমায় তুমি বাঁচাও, তবে তোমার নিখিল ভুবন ধন্য হবে ॥ যদি আমার মনের মলিন কালি ঘুচাও পুণ্যসলিল ঢালি তোমার চন্দ্র সূর্য নূতন আলোয় জাগবে জ্যোতির মহোৎসবে ॥ আজও ফোটে নি মোর শোভার কুঁড়ি, তারি বিষাদ আছে জগৎ জুড়ি। যদি নিশার তিমির গিয়ে টুটে আমার হৃদয় জেগে ওঠে, তবে মুখর হবে সকল আকাশ আনন্দময় গানের রবে।