দুঃখের যজ্ঞ-অনল-জ্বলনে জন্মে যে প্রেম দীপ্ত সে হেম, নিত্য সে নিঃসংশয়, গৌরব তার অক্ষয়॥ দুরাকাঙক্ষার পরপারে বিরহতীর্থে করে বাস যেথা জ্বলে ক্ষুব্ধ হোমাগ্নিশিখায় চিরনৈরাশ-- তৃষ্ণাদাহনমুক্ত অনুদিন অমলিন রয়। গৌরব তার অক্ষয়॥ অশ্রু-উৎস-জল-স্নানে তাপস জ্যোতির্ময় আপনারে আহুতি-দানে হল সে মৃত্যুঞ্জয়। গৌরব তার অক্ষয়॥
যখন ভাঙল মিলন-মেলা ভেবেছিলুম ভুলব না আর চক্ষের জল ফেলা ॥ দিনে দিনে পথের ধুলায় মালা হতে ফুল ঝরে যায়-- জানি নে তো কখন এল বিস্মরণের বেলা ॥ দিনে দিনে কঠিন হল কখন বুকের তল-- ভেবেছিলেম ঝরবে না আর আমার চোখের জল। হঠাৎ দেখা পথের মাঝে, কান্না তখন থামে না যে-- ভোলার তলে তলে ছিল অশ্রুজলের খেলা ॥
আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন! তারি গলার মালা হতে পাপড়ি হোথা লুটায় ছিন্ন ॥ এল যখন সাড়াটি নাই, গেল চলে জানালো তাই-- এমন ক'রে আমারে হায় কে বা কাঁদায় সে জন ভিন্ন ॥ তখন তরুণ ছিল অরুণ আলো, পথটি ছিল কুসুমকীর্ণ। বসন্ত যে রঙিন বেশে ধরায় সে দিন অবতীর্ণ। সে দিন খবর মিলল না যে, রইনু বসে ঘরের মাঝে-- আজকে পথে বাহির হব বহি আমার জীবন জীর্ণ ॥