মা-লক্ষ্মী


কার পানে মা, চেয়ে আছ

      মেলি দুটি করুণ আঁখি।

কে ছিঁড়েছে ফুলের পাতা,

      কে ধরেছে বনের পাখি।

কে কারে কী বলেছে গো,

      কার প্রাণে বেজেছে ব্যথা--

করুণায় যে ভরে এল

      দুখানি তোর আঁখির পাতা।

খেলতে খেলতে মায়ের আমার

      আর বুঝি হল না খেলা।

ফুলের গুচ্ছ কোলে প'ড়ে--

      কেন মা এ হেলাফেলা।

অনেক দুঃখ আছে হেথায়,

      এ জগৎ যে দুঃখে ভরা--

তোমার দুটি আঁখির সুধায়

      জুড়িয়ে গেল নিখিল ধরা।

লক্ষ্মী আমায় বল্‌ দেখি মা,

      লুকিয়ে ছিলি কোন্‌ সাগরে।

সহসা আজ কাহার পুণ্যে

       উদয় হলি মোদের ঘরে।

সঙ্গে করে নিয়ে এলি

      হৃদয়-ভরা স্নেহের সুধা,

হৃদয় ঢেলে মিটিয়ে যাবি

      এ জগতের প্রেমের ক্ষুধা।

থামো, থামো, ওর কাছেতে

      ক'য়ো না কেউ কঠোর কথা,

করুণ আঁখির বালাই নিয়ে

      কেউ কারে দিয়ো না ব্যথা।

সইতে যদি না পারে ও,

      কেঁদে যদি চলে যায়--

এ-ধরণীর পাষাণ-প্রাণে

      ফুলের মতো ঝরে যায়।

ও যে আমার শিশিরকণা,

      ও যে আমার সাঁঝের তারা--

কবে এল কবে যাবে

      এই ভয়তে হই রে সারা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •